সত্যনারায়ণ সিং,রানিগঞ্জ(খবর7দিন প্লাস):- রানিগঞ্জের তিরাত ঘাটের তিনটি জায়গায় চলছে অবৈধ ভাবে বালি তোলার কাজ। একটি ইসিএল বালি উত্তোলন ইউনিট রয়েছে যার আওতায় ভোর ৩:০০ টা থেকে ভোর ৬:০০ টা পর্যন্ত অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়।জানাগেছে আসানসোলের বাসিন্দা মলয় নামে এক ঠিকাদার বালি উত্তোলনের ঠিকা পেয়েছেন। যেখানে ১৮ চাকার ট্রাক প্রায়৪০ থেকে ৫০ টন বালি বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে গ্রামীণ রাস্তার ধারণক্ষমতা মাত্র ১০ টন।
যার কারণে গ্রামীণ রাস্তাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে, শুধু তাই নয়, হাড়ভাঙ্গা সেতুটিও ধ্বংস হয়ে গেছে যার মধ্য দিয়ে সমস্ত যানবাহন চলাচল করে। সেই সেতুর অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ , যে কোনও সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়াও, এই বালি বোঝাই যানবাহনগুলিকে দেওয়া চালানটি দামোদর নদীর পুরুলিয়া জেলার বলে দেখানো হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার শালতোড ব্লকের শালমা পঞ্চায়েতের আওতাধীন সাহেবডাঙ্গা থেকে দামোদর নদী থেকে বালি উত্তোলন করা হলেও, রাণীগঞ্জ ব্লকের তিরাত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামীণ রাস্তা দিয়েও বালি বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করার হয়। শুধু তাই নয়, মলয়ের নামে ট্রাক্টরের মাধ্যমে ভিন্ন ঘাট থেকে বালি তোলা হয়। যার মধ্যে দিলীপ নামে একজন স্থানীয় ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত। পরিচয় গোপন করে একজন কর্মচারীর সাথে কথা বলার সময়, তিনি বলেন যে স্থানীয়ভাবে প্রতি ট্রলিতে বালি বিক্রি হচ্ছে ৩২০০/-টাকায়। চালানের সাথে বালি নিতে বলা হলে তিনি বলেন যে চালানের দাম ৪০০০ টাকা এবং এত দামি বালি নেওয়া সম্ভব হবে না। আর এই ভাবেই চালান ছাড়াই প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর ট্রলি এখান থেকে বালি তুলে আসানসোল এবং আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। সব ট্রাক্টরই অতিরিক্ত বালি বোঝাই থাকছে। এমনকি অনেক ট্রাক্টরও তাদের পরিবহন ক্ষমতার দ্বিগুণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যেখানে অতিরিক্ত বোঝাই বালি পাচার করা হচ্ছে।
সোমবার হাড়াভাঙ্গা ও তিরাত এলাকার মহিলারা বালি বহনকারী যানবাহন থামিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে জরাজীর্ণ রাস্তা এবং হাড়া-ভাঙ্গা সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। মহিলারা বলেন, আমাদের এলাকার নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে এবং ভারী যানবাহনে করে বাইরে পাঠানো হচ্ছে, যার কারণে আমাদের গ্রামের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি এবং বাচ্চারা স্কুলে যায়, যার ফলে অনেক ঝামেলা হয় এবং দুর্ঘটনার ভয় থাকে। এছাড়াও, বহিরাগতরা এসে বৈধ বালির ঘাটে কাজ করছে, অন্যদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বেকার।
আমাদের দাবি, গ্রামীণ রাস্তাটি সঠিকভাবে তৈরি করা হোক এবং স্থানীয় বেকারদের বৈধ বালির ঘাটে কাজ দেওয়া হোক। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে বালির যানবাহন চলাচল করতে দেব না। অন্যদিকে, বাউরি সম্প্রদায়ের ব্যানারে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও হাড়াভাঙ্গা সেতু অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। অথচ সেতুটির ধারণক্ষমতা তেমন নেই। যার কারণে সেতুর অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা স্থানীয় প্রশাসন পঞ্চায়েতকে এ বিষয়ে জানিয়েছি কিন্তু প্রশাসন কোনও কর্ণপাত করছে না। যদি দ্রুত সেতুটি মেরামত না করা হয়, তাহলে আমরা একটি বড় আন্দোলন শুরু করব এবং এই সেতু দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে দেব না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে।