নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান লাভের আশীর্বাদ প্রাপ্ত ঐতিহাসিক স্থান গোইধারা বা মুড়িমেলা



নিজস্ব সংবাদদাতা,(খবর7দিন প্লাস):- মাত্র ৪ঘন্টার মেলা।আর সেই মেলায় কাঁকসা,পানাগড় আউশগ্রাম,গলসি সহ আশেপাশে এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান এই মেলায়।মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে মেলা হলেও এটি মুড়ি মেলা হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয়।এবছর মেলা প্রাঙ্গনে নব নির্মিত মন্দির উদ্বোধন করেন গলসির বিধায়ক নেপাল ঘরুই,এদিন ফিতে কেটে মন্দির উদ্বোধন করেন বিধায়ক সহ জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ বৈশাখী ব্যানার্জি সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন বহু বছর ধরে কাঁকসার মাধবমাঠ সংলগ্ন এলাকায় মাঝ মাঠে একটি পুকুরের পাড়ে এই মেলা হয়ে আসছে।জানা গিয়েছে এই মেলা শুরুর পিছনে রয়েছে এক কাহিনী।এই পুকুরের পারেই গরু চরাতো আসতো এই এলাকার রাখালরা।রাখালরা সারা বছর গরু চড়াতো বলেই তারা মকর সংক্রান্তির দিনে গামছায় মুড়ি আর তেলে ভাজা নিয়ে এই পুকুরে গরু চড়ানোর ফাঁকে মকর স্নান সেরে গামছায় বাঁধা মুড়ি ও তেলে ভাজা দিয়ে মকর সংক্রান্তি পালন করতেন।এবং পুকুরের পারে মা মনসা কে স্মরণ করে সেখানে পুজো দিতেন।পরে তারা সপ্নাদেশ পেয়ে সেখানে একটি দেবীর থান তৈরি করেন।বেশ কিছু বছর পরে গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতিরা সপ্নাদেশ পান যে,মকর সংক্রান্তির দিনে ওই পুকুরে ডুব দিয়ে মাটি হাতড়ে যা পাবে সেটা দেবীর থানে পুজো দিয়ে নিজের কাছে রাখলে তারা সন্তান লাভ করবে।সন্তান লাভের পর সেই বছরই জলে ডুব দিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস জলে দিয়ে যাবে।শোনা যায় বেশ কিছু নিঃসন্তান দম্পতি এই ভাবেই সন্তান লাভ করেছে।সেই কথা বিভিন্ন এলাকায় প্রচার হতেই ধীরে ধীরে জন সমাগম বাড়তে থাকে।আস্থার উপর ভর করে বহু মানুষ আসেন এই মেলায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন,আগে এই পুকুরের পাড়ে আসলে গোটা পাড় জুড়ে টুসু গান শোনা যেত।তবে মোবাইল ইন্টারনেটের যুগে সেই টুসু গান আর শোনা যায় না।

অন্যদিকে শীতের মরশুমে রোদে বসে মুড়ি মুড়ি আর তেলে ভাজা নিয়ে সপরিবারে ছুটি কাটানোয় মত্ত হয়ে ওঠেন মেলায় আসা মানুষরা।রাখাল দের তৈরি করা রীতি মেনে আজও মুড়ি নিয়ে বহু মানুষ ভিড় করেন এই মুড়ি মেলায়।

নবীনতর পূর্বতন