ইসিএল ডিপো থেকে কয়লা চুরির অভিযোগ! চালক-সহ ট্রাক আটক


সত্যনারায়ণ সিং,আসানসোল(খবর7দিন প্লাস):- দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা! কেন্দ্রীয় কোলিয়ারি ও ডিপো থেকে সরাসরি ট্রাকে লোড করে কয়লা চুরির ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়েছে এলাকায়। ইসিএলের সাতগ্রাম শ্রীপুর এলাকার সাতগ্রাম গেটে অবস্থিত এই ডিপো। শনিবার সেই ডিপো থেকে চুরির ঘটনাটি প্রকাশে এসেছে। 

এ ব্যাপারে সাতগ্রাম শ্রীপুর এলাকার জে কে নগর কলিয়ারির এজেন্ট মনোজ কুমার জানান, এদিন রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কয়লা বোঝাই একটি ট্রাক সাতগ্রাম শ্রীপুর এলাকার ইসিএলের কেন্দ্রীয় ডিপোর সামনে দিয়ে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের মতে, ট্রাকটি জোরপূর্বক ডিপোতে প্রবেশ করে। এরপর ট্রাকে কয়লা লোড করে সেখান থেকে চলে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গেই কর্মকর্তাদের খবর দেয়। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় পুলিশে। শ্রীপুর ফান্দি পুলিশ এবং ইসিএল নিরাপত্তারক্ষীরা জে কে নগর মোড়ের কাছে ট্রাকটি ধরে ফেলে।পুলিশ ট্রাকটি আটক করে ফান্দিতে নিয়ে যায়। সেইসঙ্গে চালককে আটক করা হয়। ট্রাকে প্রায় ৫০ টন কয়লা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কালীচরণ বাউরী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। কথিত আছে যে তিনি গাড়িতে কয়লা লোড করতে বাধ্য করেন।  এ বিষয়ে সাতগ্রাম শ্রীপুর এরিয়া মহাব্যবস্থাপক উপেন্দ্র সিংহের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু অন্যান্য বারের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখিয়ে তিনি ফোন তোলেননি বলে অভিযোগ। 

 ইসিএলের সিএমডি কারিগরি সচিব মদন মোহন কুমার জানিয়েছেন যে শ্রীপুর ফান্দিতে এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তারক্ষীরা জড়িত থাকতে পারে বলে তার অনুমান। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।  পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে এবং দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। 


উল্লেখ্য, সাতগ্রাম শ্রীপুর এলাকা থেকে ক্রমাগত কয়লা চুরির খবর প্রকাশ্যে আসছিল। সেন্ট্রাল ডিপোর নিরাপত্তারক্ষীরা  জোর করে কয়লা চুরির অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। যদি তাই হয়, তাহলে ট্রাক প্রবেশের সময় তারা কেন কর্তৃপক্ষকে ডাকলো না? ইতিমধ্যেই উঠছে এই প্রশ্ন। এদিকে ট্রাকেও মাল বোঝাই করে নিরাপত্তারক্ষীরা কিছু করতে পারেনি।  ট্রাকটি পণ্য বোঝাই করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এ তথ্য জানানো হয়।  এতে নিরাপত্তারক্ষীদের জড়িত থাকার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও অনেকের অনুমান। তবে বিষয়টি যাই হোক না কেন, এ বিষয়ে ফোন না নেওয়ায় এলাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজশ উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও এলাকাবাসীর অনুমান।  তবে ইসিএল-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

নবীনতর পূর্বতন