নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস):- কাঁকসা ব্লকে বাম জমানায় সিপিআইএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওয়া তৃণমূল কর্মীদের স্মরণে প্রতি বছরের মত এবছরও শহীদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল কাঁকসার বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাসুদেবপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে ১৯৯৮ সালে সিপিআইএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাসুদেবপুর গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই আগুনে ঝলসে গিয়ে অনেকেই আহত হন। রেহাই পায়না গবাদি পশুরা। আগুনে ঝলসে গিয়ে বহু গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছিল।সারা রাত ধরে গোটা গ্রাম জ্বলতে থাকে।তৃণমূল করার অপরাধে তিনজন তৃণমূল কর্মী শঙ্কর ঘোষ, অমর ঘোষ, লক্ষীনারায়ণ ঘোষ কে নিশংস ভাবে খুন করে সিপিআই আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। পড়ে, আরো এক তৃণমূল কর্মী নবগোপাল ডোমকেও খুন করা হয়।ঘটনার পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় ছুটে আসেন বাসুদেবপুর গ্রামে। গ্রামে ঢুকে তিনি সভা করে ১২ ই ডিসেম্বর কাঁকসা ব্লকের শহীদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন এই দিনটিকে।প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাসুদেবপুর গ্রামে তৃণমূলের শহীদ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদদের মূর্তিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠান মঞ্চে এদিন উপস্থিত ছিলেন গোলসির বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুই, কাঁকসা ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নব কুমার সামন্ত, তৃণমূল নেতা প্রভাত চট্টোপাধ্যায়,উত্তম মুখার্জি,দীপঙ্কর লাহা,সহ দুর্গাপুর মহকুমার একাধিক নেতা কর্মীরা।প্রতিবছর কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা সিপিআইএমের দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত দের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ সমাবেশে যোগ দেন।প্রতিবছরের মতো কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার কর্মী সমর্থকদের এই শহীদ দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও এবছর সভাস্থলে তেমনভাবে কর্মী সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
কি কারনে তৃণমূল কর্মীরা শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়েছেন তার বিষয় নিয়ে তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব কোনো মন্তব্য করতে চাননি। যদিও এই বিষয়ে বর্ধমান সদরের বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মার দাবি,একদিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, অপরদিকে রাজ্যজুড়ে যেভাবে আবাস যোজনা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে একের পর এক দুর্নীতিতে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের নাম জড়িয়ে পড়ছে তার ফলে তৃণমূলের অনুষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। যেভাবে তৃণমূলের অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর থেকে স্পষ্ট আগামী ২৬ এর নির্বাচনে কি ফলাফল হতে চলেছে।